বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১১:৩৯
কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি আফসোস কার হবে?

ইসলামের নৈতিক ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষায় এমন ব্যক্তিদের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে, যারা মুখে ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার কথা বলেন, কিন্তু নিজের কাজে তার বিপরীত আচরণ করেন। ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর একটি বর্ণনা অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি অনুতপ্ত হবে সেই ব্যক্তি, যে ন্যায়বিচারের কথা বলেছে, অথচ নিজেই তার বিরোধিতা করেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ‘জিহাদুন নাফস’ বা আত্মশুদ্ধি বিষয়ক অধ্যায়ে বর্ণিত একটি হাদিসে ইমাম জাফর সাদিক (আ.) এমন ব্যক্তির পরিণতি তুলে ধরেছেন, যে মানুষের সামনে ন্যায় ও নৈতিকতার গুণাবলি তুলে ধরে, কিন্তু বাস্তব জীবনে সেগুলোর বিপরীত আচরণ করে।

ইবনে আবি ইয়াফুর থেকে বর্ণিত, ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন,

 إِنَّ مِنْ أَعْظَمِ النَّاسِ حَسْرَةً یَوْمَ الْقِیَامَةِ مَنْ وَصَفَ عَدْلًا ثُمَّ خَالَفَهُ إِلَی غَیْرِهِ

“কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি আফসোস করবে সে ব্যক্তি, যে ন্যায়বিচারের কথা বলেছে, অথচ নিজেই তার বিপরীত কাজ করেছে।”

হাদিসটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কিছু মানুষ অন্যদের প্রভাবিত বা প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে মানবিক ও নৈতিক গুণাবলির কথা বলে এবং ন্যায়বিচারের প্রশংসা করে। কিন্তু বাস্তবে দায়িত্ব পালনের সময় তারা নিজেরাই সেই নীতি থেকে সরে যায়। ফলে কিয়ামতের দিন তাদের অনুশোচনা হবে অত্যন্ত গভীর।

অর্থাৎ, শুধু ন্যায় ও নৈতিকতার কথা বলা যথেষ্ট নয়; নিজের জীবন ও আচরণেও সেই মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। কারণ মানুষের সামনে যে আদর্শের কথা বলা হয়, নিজের আমল তার বিপরীত হলে তা শেষ পর্যন্ত ব্যক্তির জন্য অনুতাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এর আগে একটি বর্ণনায় ‘হুব্বে জাহ’—অর্থাৎ পদমর্যাদা ও সামাজিক সম্মানের প্রতি অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষা—মানুষকে কীভাবে মুনাফিকির দিকে নিয়ে যেতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha